‘দৌড় মসজিদ পর্যন্ত!’ভারতের চাঁদ জয়ের সাফল্যে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে বি’স্ফোরক মন্তব্য তসলিমার !

ভারতের চন্দ্রযয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েই বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানকে একহাত নিলেন তসলিমা নাসরিন। বাংলাদেশি লেখিকার মতে, তাঁর নিজের দেশ আগামী ১০০ বছরেও চাঁদে পা রাখতে পারবে না। তার কারণ বাংলাদেশ ধর্মে ডুবে রয়েছে। ফেসবুকে একটি বিস্ফোরক পোস্টে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান সরকারের তুলোধনা করেন তসলিমা।বুধবার সন্ধ্যায় চাঁদে ল্যান্ডিং হয় ভারতের চন্দ্রযান ৩-এর। শুভেচ্ছা বন্যা বয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। দেশ-বিদেশের বহু জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ইসরো তথা ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ভারতকে শুভেচ্ছা জানান নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনও।

কিন্তু, ভারতকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের কড়া সমালোচনা করেন তসলিমা নাসরিন। ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘ভারত এখন চাঁদে। অনেকে বলবে এত দারিদ্র, এত লোক খেতে পায় না, এত লোকের বাড়িতে টয়লেট নেই, কী দরকার এত টাকা খরচ করে চাঁদে গিয়ে। আমি বলব, বিজ্ঞানের অগ্রগতির সব সময় দরকার। একইসঙ্গে দারিদ্র দূর করা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সচেতনতাও বাড়ানো দরকার। একটি উন্নতি করতে গিয়ে আরও একটি উন্নতি স্থগিত রাখলে হয় না।’

তসলিমার এরপরই সংযোজন, ‘ভারতের এককালের অংশ বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের কি আগামী ১০০ বছরে চাঁদে পা রাখা সম্ভব? না। তারা ধর্মে ডুবে আছে। বিজ্ঞানকে দূরে সরিয়ে। কোরানই নাকি তাদের বিজ্ঞান। যতদিন কোরান তাদের বিজ্ঞান শেখাবে, ততদিন তাদের দৌড় মসজিদ পর্যন্ত। চাঁদ বা মঙ্গলগ্রহ পর্যন্ত নয়।’ বাংলাদেশি লেখিকার এই ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্কও শুরু হয়েছে। বহু নেটিজেন বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান সম্পর্কে তাঁর মন্তব্যে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। জনৈক বাংলাদেশের বাসিন্দা কাজী জহিরুল ইসলাম লেখেন, ‘ভারতও ধর্মান্ধ দেশ। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল সে দেশের ক্ষমতায় কিন্তু, ওরা দেশপ্রেমিক। আমাদের দেশের মূল সমস্যাটা ধর্মে নয়, আমাদের দেশপ্রেমের অভাব আছে। ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীস্বার্থ আমাদের কাছে বড়। দুর্নীতি আমাদের দেশে পাপ নয়।’

পালটা জবাবে তসলিমা নাসরিন লেখেন, ‘আমি মনে করি না বাংলাদেশের মানুষ দেশপ্রেমিক নয়। তারা দেশ থেকে বিদেশে পাড়ি জমালেও দেশ নিয়েই পড়ে থাকে। বাংলাদেশের অধিকাংশ লোকই বিজ্ঞানের সব সুবিধে নিচ্ছে, কিন্তু বিজ্ঞানমনস্ক নয়। রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রভাবশালীরা জনগণকে অন্ধকারেই রাখতে চায়। ভারতের বেশির ভাগ লোক ধার্মিক, ইসরোর বিজ্ঞানীরাও ধর্ম বিশ্বাসী, তারপরও তাদের ধর্ম তাদের বিজ্ঞান গবেষণায় বাধা সৃষ্টি করে না।

ভারতের কোনও রাষ্ট্রধর্ম নেই, এক মুসলিম ছাড়া অন্য ধর্ম গোষ্ঠীর পারিবারিক আইন ধর্ম ভিত্তিক নয়। ভারতের যত্র তত্র বিজ্ঞান ক্লাব বা বিজ্ঞান গবেষণাগার খুলতে কোনও সমস্যা হয় না। বাংলাদেশে সমস্যা হয়। বাংলাদেশের দেশপ্রেমিকেরা পাড়ায় পাড়ায় বিজ্ঞান ক্লাবের বদলে মসজিদ মাদ্রাসা গড়তে আগ্রহী।’