অঙ্গনওয়াড়িতে কাজ করে ছেলেকে মানুষ করেন! ছেলে যা করে দেখালেন,স্যালুট নেটিজেনদের

রামপুরহাটের বিশাখ মণ্ডল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয় বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তাঁর মা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে কাজ করেন। বাবা কৃষক। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান বিশাখ ছেলেবেলা থেকেই মেধাবী। যাদবপুরেও টপার ছিলেন তিনি। পড়াশোনাতে ভীষণ মেধাবী ছিলেন তিনি।

কলেজ ক্যাম্পাসিংয়েই তিনি চাকরি পেয়েছেন। সেই সময় তাঁকে বার্ষিক কোটি টাকা বেতনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ব্যাপক সুখবর দিলেন রামপুরহাটের বিশাখ মণ্ডল। গুগল এবং ফেসবুক এই দুই সংস্থা থেকেই চাকরির প্রস্তাব পেয়েছিলেন রামপুরহাটের কৃতি ছাত্র তথা যাদবপুরের প্রাক্তনী বিশাখ মণ্ডল। প্রথমে ফেসবুকে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরে তিনি জানিয়েছিলেন গুগলে যোগ দিতে চলেছেন তিনি। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে এই বার্তা দিয়েছিলেন বিশাখ। শুরু হয়েছিল জোর কদমে প্রস্তুতিও। অবশেষে গুগলে যোগদান করেছেন বিশাখ। তার মাইনে শুনলে অবাক হতে হবে।

আপাতত কর্মসূত্রে বীরভূমের এই যুবক রয়েছেন বিদেশেই। এদিকে গুগলে ছেলে মোটা টাকা পারিশ্রমিক পেলেও অঙ্গনওয়াড়ির কাজ ছাড়তে নারাজ তাঁর মা।ফেসবুক এবং গুগল দুটি সংস্থা থেকেই এই প্রস্তাব পান বিশাখ। প্রথমে জানা যাচ্ছিল, তিনি ফেসবুকে যোগদান করবেন। কিন্তু, পরে অবশ্য তিনি জানান, ফেসবুকে নয় গুগলে যোগদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছিল, তবে কি ফেসবুকের থেকে বেশি প্যাকেজ দিচ্ছে গুগল?

এই প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে চাননি বিশাখ। তবে তাঁর প্যাকেজ বার্ষিক দুই কোটি বলেই গুঞ্জন। বলেইএদিকে ছেলে গুগলে যোগদান করলেও বিশাখের মা শিবানীদেবী অঙ্গনওয়াড়ির চাকরি ছাড়তে নারাজ। ছেলে আপাতত লন্ডনে। শিবানীদেবীও ব্যস্ত নিজের কাজে। ভিডিয়ো কলে ছেলের সঙ্গে কথা হয় পরিবারের।

উল্লেখ্য, রামপুরহাট জিতেন্দ্রলাল বিদ্যাভবনের ছাত্র ছিলেন বিশাখ। বাংলামাধ্যমের এই ছাত্র ছেলেবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। তাঁর বাড়ির আলমারি ভর্তি সুসজ্জিত ট্রফিতে। স্কুল শেষ করার পর তিনি যাদবপুরের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা করেন। ফেসবুক এবং গুগল থেকে চাকরি পাওয়ার পর বিশাখ বলেন, “ছেলেবেলা থেকেই মা-বাবাকে কষ্ট করতে দেখেছি। কেউ আমার উপর প্রত্যাশার চাপ দেননি। আমি যাতে মানুষের মতো মানুষ হতে পারি সেকথাই তাঁদের মুখে শুনে এসেছি বরাবর। সেটাই আমার লক্ষ্য ছিল।”