বিষধর সাপের কামড়ে কখনোই মৃত্যু হয় না ঘোড়ার, কেন জানেন? রয়েছে অদ্ভূত কারণ!

পৃথিবীতে সব থেকে খতরনাক জন্তুগুলির মধ্যে অন্যতম হলো সাপ। যদিও এই সাপের অনেক আলাদা আলাদা ধরন রয়েছে, কোন সাপের বিষ থাকে আবার কোন সাপের বিষ থাকে না। তবুও গ্রামে গঞ্জে প্রত্যেক বছর ৫০০০০ থেকে ১ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় সারা ভারত জুড়ে। সচেতনতা বাড়ানো সত্ত্বেও অনেকে ডাক্তারকে বাদ দিয়ে ওঝা তান্ত্রিকের কাছে সাপে কামড়ানো রোগীকে নিয়ে যায় এবং সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে অনেক ক্ষেত্রে। বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণীদের মধ্যে সাপ একটি যাদের কামড়ে কেউ রক্ষা পায় না। তবে বেশ কয়েকটি প্রাণী রয়েছে যারা সাপের কামড়েও মরে না।

সাপের কামড় সত্বেও মরে না এই ধরনের কোন প্রাণীর কথা যদি বলতে হয় তাহলে অবশ্যই এর মধ্যে একটি প্রাণীর নাম ঘোড়া। সাপের কামড়ে ঘোড়া তিন দিন অসুস্থ থাকার পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়। আর এই ঘোড়া থেকে আসে পৃথিবীতে সমস্ত সাপের বিষের প্রতিষেধক (অ্যান্টি ভেনাম)।  পৃথিবীতে খুব স্বল্প সংখ্যক প্রাণী রয়েছে যারা নিজের শরীরে সাপের বিষ প্রতিরোধের ওষুধ তৈরি করতে পারে। যেমন: বেজি, উট, ঘোড়া, হাঙ্গর ইত্যাদি। আসলে কোন একটি সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরি করতে হলে ঘোড়ার শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় সাপের বিষ। ঘোড়ার শরীরে সাপ ঢুকিয়ে দেওয়ার পর…

```

ঘোড়ার শরীরে সাপের বিষ ঢুকিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও এতে ঘোড়ার কিছুই হয় না। কেবলমাত্র তিনদিনের জন্য অসুস্থ হয়ে যায়। এরপর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে। এই তিন দিনে ঘোড়ার রক্তে ওই সাপের বিষের অ্যান্টি ভেনাম তৈরি হয়। ঘোড়া শরীর থেকে রক্ত নিয়ে তার লাল অংশ আলাদা করা হয়। সাদা অংশ অর্থাৎ ম্যাট্রিক্স থেকে অ্যান্টি ভেনাম আলাদা করা হয়। ঘোড়া বেশ স্বাস্থ্যবান এবং অনেক রক্ত থাকে বলে ঘোরার তেমন ক্ষতি হয় না।

এরপর এই অ্যান্টি ভেনমের শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে শিশিতে ভরে বাজারে সরবরাহ করা হয়। জানিয়ে রাখি চিকেন পক্সের অ্যান্টিবডি এবং সাপের বিষের অ্যান্টিভেনামের প্রক্রিয়া নীতি প্রায় একই। চিকেন পক্সের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি তৈরি করে আমাদের শরীর। আর সাপের বিষের ক্ষেত্রে সেটি তৈরি হয় ঘোরা শরীরে। এই অ্যান্টি ভেনম সাপে কাটা রোগীর শরীরে ইনজেকশন করলে শরীরে থাকা সমস্ত বিষকে অকার্যকর করে রোগীর জীবন বাঁচায়।

```

পাশাপাশি আমাদের দর্শকদের উদ্দেশ্যে আমরা বলব যে আপনাদের আশেপাশের যখনই কোন ব্যক্তিকে সাপে কামড়াবে সেই ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিকে কখনোই ওঝা অথবা তান্ত্রিকের কাছে না নিয়ে গিয়ে তাকে ডাক্তারের কাছে অথবা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াটার উপর জোর দেবেন এতে সেই ব্যক্তির প্রাণ বেঁচে যেতে পারে।