লোকের বাড়ি,ইট ভাটায় কাজ করে ছেলেকে বড়ো করেন, মায়ের স্বপ্নপূরণ করে ছেলে যা করলেন,স্যালুট

কোন মানুষ যদি জীবনে কিছু একটা করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তার পিছনে প্রাণপণ চেষ্টা করে তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই সাফল্য আসে। কারণ কথাতেই আছে যে চেষ্টা করে তার কখনো পরাজয় হয় না। হয়তো সেখান থেকে এসে জয় লাভ করে অথবা সেখান থেকে ভালো কিছু শিখে আসে যা পরবর্তীতে তাকে জয়লাভ করতে সাহায্য করে।।কথায় আছে যে ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়। আর এই ইচ্ছা শক্তির সাথে যদি শিক্ষার শক্তিও যুক্ত হয়ে যায় তাহলে কোনো মানুষকে সফলতা অর্জন করতে কেউ আটকাতে পারে না। আজ এমন একজন ব্যক্তির কথা বলতে চলেছি যিনি অত্যন্ত দরিদ্র অবস্থাতে নিজের জীবন শুরু করলেও আজকে এমন জায়গায় পৌঁছেছেন যেখানে পৌঁছানো অনেকের স্বপ্ন।

যে ব্যক্তির কাহিনী আজকে আপনাদের শোনাবো তার নাম বাসু জৈন। ছোট থেকেই তিনি দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন দেখেছেন কিভাবে তার মা সমাজের সাথে লড়াই করে সামান্য টুকু অর্থ উপার্জন করে তাকে মানুষ করে আর সেই কারণে তিনি ছোট থেকেই ভেবে নিয়েছিলেন যে মায়ের দারিদ্র্য তিনি একদিন শেষ করবেন। ছোটবেলা থেকে তার মা যে কঠিন লড়াই করে তাকে বড় করেছে সেই লড়াইয়ের পুরস্কার তার মায়ের প্রাপ্য তাই জন্য এমন কিছু করে দেখাবেন যাতে তার মায়ের এই লড়াই সার্থক হয়।

```

গুজরাটের ছোট্ট গ্রামের এই যুবক বাসু, যার মায়ের স্বপ্ন ছিল একজন ইউপিএসসি পাশ করে সিভিল সার্ভিস অফিসার হওয়া। কিন্তু দারিদ্র্যের জন্য তার মা সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি। তাই মায়ের সেই স্বপ্ন পূরণ করার লক্ষ্যে তিনি এগিয়ে চলেন। ল(law) নিয়ে তিনি গ্রাজুয়েশনে পড়াশোনা করেন, কিন্তু কলেজের ফাইনাল বছর পর্যন্ত যেতে যেতে, সে সিদ্ধান্ত নেই সিভিল সার্ভিস অফিসার হবে। পড়াশুনা করা শুরু করে দেয় কিন্তু তার গ্রাজুয়েশন এর পড়াশোনাও সম্পূর্ণরূপে ইউপিএসসি এর পড়াশোনা থেকে আলাদা ছিল তাই তাকে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয় কিন্তু তার সত্বেও সেই UPSC পরীক্ষায় সে ফেল করে।।ভেঙে যায় তার স্বপ্ন।

প্রথম দুটি বছরের অকৃতকার্য হবার পরে সে বুঝতে পারে যে তার কিছু ভুল হচ্ছে এবং সেই সমস্ত ভুল সে শুধরে নেয় এবং তারপরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে এবং তৃতীয়বারের চেষ্টায় সে সফলভাবে পরীক্ষায় পাশ করে শুধু তাই নয় সারা ভারতবর্ষে ৬৭ নাম্বার এসে রেংক করে। যা রীতিমতো চমকপ্রদ। তার মায়ের স্বপ্ন সে পূরণ করে এবং একজন সিভিল সার্ভিস অফিসার হয়ে সে ডিউটি জয়েন করে।

```

অক্লান্ত পরিশ্রম আর অদম্য জেদ দিয়ে তার মায়ের যে স্বপ্ন ছিল সেই স্বপ্ন সে পূরণ করেছে এবং প্রমাণ করে দিয়েছে যে মানুষ যদি চায় তাহলে সে সবকিছুই করতে পারে কারণ ইউ পি এস সি পরীক্ষাতে সফল হওয়া ভীষণ কঠিন একটা ব্যাপার। অথচ সে তার চেষ্টা এবং জেদ এবং মায়ের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ করে।