জোঁকের গায়ে নুন দিলে কেন মারা যায়? আসল কারণ জানলে অবাক হবেন

একটা জিনিস আমরা গ্রাম বাংলায় ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি যে জোঁকের গায়ে নুন দিলে সাথে সাথেই সে রীতিমতো মারা যায়। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন কেন এরকমটা হয়? নিশ্চয়ই এটা কোন জাদু নয় এর পিছনে অবশ্যই বিজ্ঞান রয়েছে। আজকে যে বিষয়টি নিয়ে এই লেখাটি, সেটার জন্য ভালো করে বিজ্ঞান বোঝার দরকার আছে। এই ঘটনা বোঝার জন্য একটি বিষয় জানার প্রয়োজন সেটি হল অভিস্রবণ।

প্রথমে একটা উদাহরণ দেওয়া যাক আপনি নিশ্চয়ই কিসমিস খেয়েছেন। এই ফল দেখতে ভালো না হলেও খেতে ভারী মিষ্টি। অভিস্রবণ বুঝতে গেলে আপনাকে কিসমিস নিয়ে পরীক্ষা করতে হবে । জীবন বিজ্ঞানের অভিস্রবণ অধ্যায়ের কথা একবার চট করে মনে করুন দেখি। কিছু কিসমিস কে জলের মধ্যে ফেলে দিলে কিছুক্ষণ পরে দেখা যায় যে কিসমিস গুলি জল শুষে নিয়ে কিছুটা ফুলে উঠেছে, এই ব্যাপারটা লক্ষ্য করে থাকবেন হয়তো।

```

প্রশ্ন: কেন এমন হয়?

উত্তর: দুটি ভিন্ন ঘনত্বের মাধ্যম একটি অর্ধবেদ্য পর্দা দিয়ে যদি আলাদা করা থাকে তাহলে কম ঘনত্বের অনুগুলির অর্ধ পর্দার মধ্যে দিয়ে বেশি ঘনত্বের মাধ্যমের দিকে এগিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়াটি ততক্ষণ চলতে থাকে যতক্ষণ না দুটির ঘনত্ব সমান হয় এই প্রক্রিয়াটিকে অভিস্রবণ বলা হয়।

এখন আপনার মনে হতেই পারে এর সঙ্গে জোকের গায়ে নুন দেওয়ার কি সম্পর্ক আসলে জোঁকের শরীরে প্রচুর পরিমাণে জল থাকে। তাদের শরীর একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা ঢাকা থাকে। আমরা যখন তাদের নুন ছড়িয়ে দেই তখন তাদের মিউকাস অর্থাৎ যার সাহায্যে যোগ চলাচল করে তার মধ্যে নুন প্রবেশ করে।

```

শরীরের বাইরের নুনের ঘনত্ব বেশি হওয়ার জন্য তাদের শরীর থেকে জল বেরিয়ে আসে। আর অতিরিক্ত জল শরীরের বাইরে বেড়ানোর জন্য ডিহাইড্রেশনের(জলের অভাবে) ফলে তাদের মৃত্যু হয় এটাই হল বিজ্ঞানসম্মত কারণ।